• ঢাকা
  • শনিবার, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ; ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

Advertise your products here

Advertise your products here

ছাত্রী হেনস্থার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি: আন্দলনে উত্তাল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়


Newsofdhaka24.com ; প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:১৯ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয়
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়,

 নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব সম্পদ ব্যাবস্থাপনা  বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজন সাহার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও ছাত্রী হেনস্থের অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলন চলছে। উক্ত ঘটনায় যৌন হয়রানির আশ্রয়দাতা হিসেবে অভিযুক্ত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রেজুয়ান আহম্মেদ শুভ্র ও সহকারী অধ্যাপক সাজন সাহার স্থায়ী বহিষ্কারসহ নানান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এবং তা কার্যকরের আশায় প্রথম দিন থেকেই নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।


ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগে করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুর দিক অর্থাৎ ২০১৯ সাল থেকেই তার বিভাগের শিক্ষক সাজন সাহা তাকে বিভিন্ন অনৈতিক ম্যাসেজ দিয়ে মধ্য রাতে চা পানের নিমন্ত্রণ, অঙ্ক বোঝানোর নামে ব্যক্তিগত চেম্বারে ডাকা ও শাড়ি পরে দেখা করার জন্য বলতো। কিন্তু সেসব অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ওই শিক্ষকের কোর্সে নম্বর কমিয়ে দেওয়া, থিসিস পেপার আটকে দেওয়ার মত নানানভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি।

অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধান রেজুয়ান আহমেদ শুভ্রর বিষয়ে অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক সাজন সাহার এমন অনৈতিক কার্যকলাপের বিষয়ে বিভাগীয় প্রধানকে অবগত করলে তিনিও নানাভাবে আমাকে ঘুড়াতে থাকে। এক পর্যায়ে আমাদের বিভাগের অন্য দুই শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক রিমন সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক ফাহমিদা সুলতানার বিপক্ষে আমাকে উস্কে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে এমন অনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করে দিতে বলেন।


৫ মার্চ মঙ্গলবার উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করার দুইদিন আগে ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সোস্যাল মিডিয়া ফেইসবুকে আট থেকে দশটি স্ক্রিনশট পোস্ট করেন। যেখানে দেখা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে মধ্য রাতে চা পানের দাওয়াতসহ একাধিক অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এমনকি শেয়ার করেন অন্তরঙ্গ ভিডিও ক্লিপ লিংক। এরপর থেকেই সরব হয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী। ফেসবুকে ছড়িয়ে পরে অন্তত ত্রিশ জন শিক্ষার্থীকে দেয়া এমন অনৈতিক প্রস্তাবের ম্যাসেজ চেটিংয়ের স্ক্রিনশট। একপর্যায়ে আন্দোলন করে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। করেন গণ স্বাক্ষর কর্মসূচি। যেখানে ১৫০ জনের বেশি ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সঞ্জয় মুখার্জী বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি এরইমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়াও ঘটনা তদন্ত করতে উচ্চ-পর্যায়ের তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পরবর্তীতে উক্ত ঘটনায় উচ্চ-পর্যায়ের তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. আতাউর রহমানকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়া ও শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ কে এম আব্দুর রফিককে তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন কতদিনের মধ্যে জমা দেবে তা নির্ধারণ করা হয়নি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এ পর্যন্ত কর্মসূচির মধ্যে ছিল:

• সহকারী অধ্যাপক সাজন সাহা ও বিভাগীয় প্রধান রেজুয়ান্স শুভ্রের দ্রুত বিচার ও বিভাগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার
• অনির্দিষ্টকালের জন্য বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন।
• প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবরুদ্ধকরণ ও অবস্থান কর্মসূচি।
• বিভাগের নাম সম্বলিত দেয়ালে কালো কাপড় টানানো।
• অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের নেমপ্লেট ভেঙে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
• বিভাগের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। 
• বিভাগীয় প্রধান রেজুয়ান আহমেদ শুভ্রসহ বেশকজন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং সবশেষে  প্রক্টরিয়াল বডির সহযোগিতায় দুয়োধ্বনিতে বিভাগ ছাড়ে রেজুয়ান আহমেদ শুভ্র।
• রাতে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি জ্বালিয়ে  মৌন মিছিল ।
• মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল, ইত্যাদি।


এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ মার্চ (রবিবার) মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধানকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অপসারণ এবং ঘটনার তদন্তের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় বেধে দেয়ার দাবিতে দুপুর ১২ টায়  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটোক এ তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নিয় শিক্ষার্থীরা । এ সময় তারা অভিযুক্ত দুজন শিক্ষক সাজন সাহা এবং রিজওয়ান আহমেদ শুভ্রর কুশপুত্তলিকা বানিয়ে তাতে জুতার মালা পরিয়ে , মিছিল স্লোগানের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায় । প্রায় দুই ঘন্টা প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সঞ্জয় মুখার্জির হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়। তিনি বলেন, এ সময়  অভিযুক্তদের বিচারের জন্য আমরা কাজ করছি , বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে । অভিযুক্তদের বিচার করতে হলে আমাদেরকে একটি প্রশাসনিক এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা সম্পন্ন করতে হবে । সে পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাই।

উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজন সাহার বিরুদ্ধে হয়রানি এবং বিভাগীয় প্রধান রিজওয়ান আহমেদ শুভ্রর বিরুদ্ধে ইন্ধন দেয়ার অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন একই বিভাগের নারী শিক্ষার্থী সৈয়দা সানজানা ছোঁয়া (চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী) । এই ঘটনার পর রাত না পোহাতেই আরও অনেক শিক্ষার্থীর সাথে অভিযুক্ত শিক্ষকের আপত্তিকর কনভারসেশনের স্ক্রিনশট বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ফেসবুক গ্রুপে ফাঁস হয় । এরপর তা শিক্ষার্থীদের গণ আন্দোলনে রুপ নেয় । তবে এখনো সুষ্ঠু বিচার পাওয়া যায়নি।

Newsofdhaka24.com / News

ক্যাম্পাস বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ